ইসলাম সম্পর্কে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহবান প্রধানমন্ত্রীর

জাগো বাংলা ডেস্ক প্রকাশিত: ০২:১১ পিএম, ১১ জুলাই ২০১৮
ইসলাম সম্পর্কে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহবান প্রধানমন্ত্রীর

ইসলাম সম্পর্কে বিভ্রান্তি ছড়ানো থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্মের শিক্ষা মানুষের কাছে যেন উচ্চ আসনে থাকে সেটা প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের লক্ষ্য। কিন্তু কিছু লোক নিজস্ব স্বার্থে ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে আমাদের জন্য, সমগ্র মুুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য সমস্যার সৃষ্টি করছে।

আজ বুধবার রাজধানীর আশকোনা হজ ক্যাম্পে হজ কার্যক্রম-২০১৮ (১৪৩৯ হি.) এর শুভ উদ্বোধন ও হজযাত্রীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

এবার ১ লাখ ২৬ হাজার ৭৯৮ জন হজযাত্রী পবিত্র হজব্রত পালনে মক্কা নগরীতে যাচ্ছেন। হজ কার্যক্রম উদ্বোধনের পর হজযাত্রীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। আগামীকাল বৃহস্পতিবার হজ যাত্রীদের নিয়ে প্রথম ফ্লাইট মক্কার উদ্দেশে যাত্রা করার কথা রয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হজ যাত্রীদের কাছে দোয়া চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা হজে গিয়ে দেশবাসীর জন্য দোয়া করবেন। দেশ যেন উন্নত ও সমৃদ্ধশালী হয় এবং আমরা দেশ ও দেশের মানুষের জন্য যে কাজ করেছি, যে কাজ করার উদ্যোগ নিয়েছি তা যেন ভালোভাবে শেষ হয় সে জন্য দোয়া করবেন।

জঙ্গি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তার সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছু মানুষ যখন ইসলামের নাম নিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে এবং জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে তখন বিশ্বে মুসলমানদের হেয় হতে হয়। ইসলাম শান্তির ধর্ম এবং এই ধর্মেই আছে সব ধর্মের মানুষ স্বাধীনভাবে নিজনিজ ধর্ম পালন করবে। আমাদের নবী করিম (সা:) ও সে কথা বারবার বলে গেছেন।

শেখ হাসিনা এসময় জাতির পিতার ভাষণের একটি উদ্বৃতি দিয়ে ইনসাফের ইসলাম কায়েমের জন্য সবার প্রতি আহবান জানান। বঙ্গবন্ধু ১৯৭০ এর সাধারণ নির্বাচনের আগে এক ঐতিহাসিক বেতার ভাষণে বলেছিলেন, ‘আমরা ইনসাফের ইসলামে বিশ্বাসী। আমাদের ইসলাম হযরত নবী করীম (সা:) এর ইসলাম, যে ইসলাম জগতবাসীকে শিক্ষা দিয়েছে ন্যায় ও সুবিচারের অমোঘ মন্ত্র।’

ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী একেএম শাহজাহান কামাল, ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বিএইচ হারুন, ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, রাজকীয় সৌদি দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স আমির বিন ওমর সালেহ বক্তৃতা করেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনিসুর রহমান স্বাগত বক্তৃতা করেন এবং অনুষ্ঠানে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মওলানা মিজানুর রহমান দেশ, জাতি এব মুসলিম উন্মহির শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগগ্রতি এবং ‘৭৫’র ১৫ আগষ্ট শাহাদাৎ বরণকারি জাতির পিতা এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী পরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, সরকারের পস্থ সামরিক ও বেসাসরিক কর্মকর্তাবৃন্দ, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দূতাবাসের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং হজযাত্রীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী এসময় ৭৫’এর ১৫ আগস্টের বিয়োগান্তক অধ্যায়ের উল্লেখ করে সেদিনের শাহাদত বরণকারীদের জন্য হজযাত্রীদের কাছে দোয়া কামনা করেন। তিনি বলেন, ‘আপনারা তাদের জন্য একটু দোয়া করবেন আল্লাহ যেন তাদের বেহেশত নসীব করেন।

তিনি বলেন, আমার চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই। শুধু একটা লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছি- আমার বাবা এই দেশ স্বাধীন করে গেছেন। কাজেই, এই দেশের মানুষষ দারিদ্র থেকে মুক্তি পাবে, সুন্দর জীবন পাবে, ভালোভাবে বাঁচার অধিকার পাবে- সেটাই আমার লক্ষ্য। এবং গত ৯ বছরে আপনারা নিজেরাই দেখতে পাচ্ছেন দেশের কি পরিমান উন্নয়ন হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় দেশে ইসলামের প্রচারে জাতির পিতার উদ্যোগ তুলে ধরে বলেন, কম খরচে হজ পালনের জন্য জাতির পিতা হিজবুল বাহার জাহাজ ক্রয় করেন এবং বিমানেও বাংলাদেশ থেকে প্রথম হজযাত্রী পাঠান। যদিও সেসময় পর্যন্ত সৌদি আরব বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান করেনি তথাপি বঙ্গবন্ধুর সৌদি আরবের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্কের কারণেই এটা করা সম্ভবপর হয়েছিল বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু মুসলিম বিশ্বসহ আরব দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপন করেন। তার দূরদর্শীতায় বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালে ওআইসি’র সদস্যপদ লাভ করে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিতে শুরু করে।

জাতির পিতা নিজে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও মাদ্রাসা বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনিই প্রথম আইন করে দেশে মদ নিষিদ্ধ করেন। ঘোড়দৌড় ও জুয়া বন্ধ করেন। বেতার ও টেলিভিশনে অনুষ্ঠানের শুরু ও সমাপ্তিতে কুরআন তেলাওয়াতের প্রচলন করেন।

এইচএম