ভুলে ভরা প্রশ্নপত্র

জাগো বাংলা ডেস্ক প্রকাশিত: ০৮:০৬ এএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২
ভুলে ভরা প্রশ্নপত্র
এসএসসি পরীক্ষা

সারাদেশে চলছে ২০২২ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা। গেল বৃহস্পতিবার প্রথম দিন বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা সারাদেশে একযোগে অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেখা গেছে, প্রশ্নপত্রে অনেক বানানই ভুল। ভুলে ভরা এ প্রশ্নেই ওই দিন ২০ লাখ ২১ হাজার ৮৬৮ পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছে।

এবার ৪ নম্বর সেটের প্রশ্নে বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা নেওয়া হয়। এতে দেখা গেছে, প্যারালিম্পিক বানানকে 'প্যরালিম্পিক', পাড়া-প্রতিবেশীকে 'পাড়াপ্রতিবেশী', বন্ধু-বান্ধবের বানান 'বন্ধুবান্ধবের', সংক্রমণকে 'সংক্রামন'; রবে না বানান 'রবেনা', রেজাল্ট হাতে বানানকে 'রেজালট হতে', কম বানান 'মম', ফ্যান্টাস্টিক বানান 'ফ্যাণ্টাস্টিক', হান্ড্রেড বানানকে 'হানড্রেট', মতো বানানকে 'মতে', অঙ্গ বানানকে অংঙ্গ, লাগে না বানান 'লাগেনা', সন্ধ্যা বানান 'সন্ধা', মহব্বত বানান 'মহববত', জানতাম না বানান 'জানতামনা' এবং কাকতাড়ূয়া বানান 'কাকতাড়ূয়া' লেখা হয়েছে। এর বাইরে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর লালসালু উপন্যাসের ক্ষেত্রে ঔপন্যাসিকের নাম ওয়ালী উল্লাহ এবং উপন্যাসের নাম লাল সালু লেখা হয়েছে। এর বাইরেও রয়েছে আরও বেশ কিছু ভুল। প্রশ্নের উদ্দীপকে আক্কাস আলীর নাম একবার 'আলি' লিখে পরের লাইনেই আবার 'আলী' লেখা হয়েছে।

রাজধানীর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একাধিক বাংলা শিক্ষক বলেন, যত্ন নিয়ে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা হয়নি। এ ক্ষেত্রে প্রশ্নপত্র প্রণেতাদের চরম গাফিলতি ছিল। এমনকি মডারেশনের সময়ও এসব ভুল ধরা পড়ার কথা। এ ক্ষেত্রে যাঁরা মডারেশন করেছেন তাঁরাও একইভাবে গাফিলতি করেছেন। তাঁরা বলেন, গত বছরও বাংলা প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্রে ভুল ছিল। কারও কোনো শাস্তির উদাহরণ না থাকায় বছরের পর বছর ভুলে ভরা প্রশ্ন পরীক্ষার্থীদের দেওয়া হচ্ছে।

জানা গেছে, শিক্ষা বোর্ডগুলোর তালিকাভুক্ত মুখচেনা কিছু শিক্ষকই সব সময় প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মডারেশন করার দায়িত্ব পান। ভুল করার পরও তাঁদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। ২০১৯ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ইংরেজি প্রথম পত্রের নৈর্ব্যক্তিক অংশে সরাসরি একটি গাইড বই থেকে দুটি প্রশ্ন তুলে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল।

জানা গেছে, শুধু প্রশ্নপত্র প্রণয়ন বা মডারেশন নয়, একইভাবে পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনেও একশ্রেণির শিক্ষক অহরহ গাফিলতির পরিচয় দিচ্ছেন। তাঁরা ভুল প্রশ্ন বিতরণ করছেন, আবার কেউ দিচ্ছেন দেরিতে প্রশ্নপত্র। কোনো নিয়মনীতিই তাঁরা মানতে চাইছেন না।

এবারের এসএসসি পরীক্ষায় এ কারণে যশোর শিক্ষা বোর্ডের বাংলা দ্বিতীয় পত্রের বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) পরীক্ষা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। রুটিন অনুযায়ী শনিবার এ পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল; পরীক্ষার প্রথম দিন গত বৃহস্পতিবার নড়াইলের কালিয়ার একটি কেন্দ্রে বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষার সময় দ্বিতীয় পত্রের বহুনির্বাচনী প্রশ্নপত্র (এমসিকিউ) বিতরণ করার কারণে প্রশ্ন ফাঁস হয়ে যায়। এতে পরীক্ষা স্থগিত করা অনিবার্য হয়ে পড়ে বলে জানান ওই শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধব চন্দ্র রুদ্র। তবে রুটিন অনুযায়ী শনিবার বাংলা দ্বিতীয় পত্রের সৃজনশীল অংশের পরীক্ষা সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা ৪০ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জানা গেছে, এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিন বৃহস্পতিবার নড়াইলের কালিয়া উপজেলার প্যারী শংকর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, বাঐসোনা কামশিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং লোহাগড়ার দিঘলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বাংলা প্রথম পত্রের এমসিকিউ প্রশ্নপত্রের বদলে দ্বিতীয় পত্রের এমসিকিউ প্রশ্ন বিতরণ করা হয়েছিল। শিক্ষকদের অবহেলা ও গাফিলতির কারণে নতুন করে আবারও সরকারকে বাংলা দ্বিতীয় পত্রের এমসিকিউ প্রশ্নপত্র ফের ছাপাতে হবে। এতে সরকারের গচ্চা যাবে মোটা অঙ্কের টাকা। যদিও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধব চন্দ্র রুদ্র দাবি করছেন, যেখান থেকে প্রশ্নপত্র প্যাকেট করা হয়েছে, সেখান থেকেই ভুলটি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে তারা মনে করছেন।

এসএসসির প্রথম দিনে ঝিনাইদহের শৈলকুপা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ১৫ মিনিট দেরিতে প্রশ্ন বিতরণ করা হয়। এ ঘটনায় পরীক্ষার্থীরা অভিযোগ করলে কেন্দ্র সচিব ওই দুই কক্ষ পরিদর্শককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন। যদিও কেন্দ্র সচিব জানান, ১৫ মিনিট নয়, ৫ মিনিট পরে ২০৪ নম্বর কক্ষে প্রশ্ন বিতরণ করা হয়।

পাবলিক পরীক্ষায় শিক্ষকদের দায়িত্ব অবহেলা ও গাফিলতির এসব বিষয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সভাপতি ও ঢাকা বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার বলেন, পাবলিক পরীক্ষার দায়িত্ব পালনে কারও অবহেলা কিংবা শৈথিল্য দেখানোর সুযোগ নেই। প্রত্যেককেই তাঁর কাজের দায়দায়িত্ব নিতে হবে। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে বিধিমোতাবেক শাস্তি হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ছাড় নেই।