করোনা চিকিৎসায় ১০০ টাকার বেশি খরচ হয় না

জাগো বাংলা রিপোর্ট প্রকাশিত: ০২:৪৪ পিএম, ২৯ মে ২০২০
করোনা চিকিৎসায় ১০০ টাকার বেশি খরচ হয় না
ফাইল ছবি

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। ফুসফুসের এক্স-রে-তে তার অবস্থার উন্নতি দেখা যায়। করোনায় আক্রান্তের পর তিনি প্লাজমা নেন। তাতে উপকার পাওয়ায় বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাতে দ্বিতীয়বারের মতো প্লাজমা নেন তিনি। তবে তার চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে খুবই স্বল্প খরচে।

তিনি মনে করেন, করোনা চিকিৎসায় সবকিছু মিলিয়ে ১০০ টাকার বেশি খরচ হয় না। স্বপ্নের কথা বলে ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘যদি জীবনী শক্তি থাকে, যে সুবিধা আমি পেয়েছি (প্লাজমা গ্রহণসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা), বাংলাদেশের প্রত্যেকটা নাগরিক যেন পায়, তার জন্য আমি কাজ করতে চাই।’

ডা. জাফরুল্লাহ কী ধরনের ওষুধ-ব্যবস্থা গ্রহণ করে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন এবং করোনায় আক্রান্তরা কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন- এমন নানা বিষয় নিয়ে শুক্রবার কথা বলেছেন তিনি।

আপনার বর্তমান শারীরিক অবস্থা কী?

ভালো। আমার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।

প্রথম অবস্থায় আপনার হালকা জ্বর ছিল। বর্তমানে কী ধরনের উপসর্গ রয়েছে?

এখন জ্বর সামান্য। নাই বলা চলে। এখন একটা এক্স-রে করালাম হাসপাতালে। তাতে উন্নতি দেখা গেছে। এই রোগ তো শ্বাস-প্রশ্বাসে ঝালেমা করে। এজন্য লাঞ্চের ছবি নিলাম, এক্স-রে করালাম। তাতে দেখা গেছে, অবনতি হয় নাই, বরং উন্নতি হয়েছে।

আপনি কী ধরনের ওষুধ ও ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন?

অকারণে ওষুধ-টষুধের পেছনে ঘুইরা লাভ নাই। পয়লা তাকে একটা টেস্ট করাইতে হবে। যদি টেস্ট পজেটিভ হয়, তখন (প্রথমিক অবস্থায়) ছোট সিমটম (উপসর্গ) থাকে। একটু জ্বর থাকে, সর্দি-কাশি থাকে। তাকে ৭০ পয়সার প্যারাসিটামল খেতে হবে। ৭ টাকায় ১০টা প্যারাসিটামল। গরম পানি খেতে হবে। আর কিছু করতে হবে না। তার নাক দিয়ে যদি পানি পড়ে, তাহলে এন্টিহিস্টামিন খেতে হবে। গণস্বাস্থ্যে সেটার দাম ৫০ পয়সা। আর গরম পানি খেতে হবে, কোনো ঠান্ডা খাওয়া চলবে না।

আর আলাদা থাকতে হবে। কোনোক্রমেই পরিবারের সাথে থাকা চলবে না। তাহলে সে পরিবারকে আক্রান্ত করে দেবে। এটাই হলো বড় কাজ। তারপর যদি দেখা যায় শ্বাসকষ্ট হচ্ছে, তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত। ডাক্তার যদি দেখেন অক্সিজেন লাগবে, তা দিয়ে দেবে। আর দুটা করে প্রতিদিন ডক্সিসাইক্লিন খাবে ৬ দিন। করোনা চিকিৎসায় সর্বোচ্চ ১০০ টাকা খরচ হবে।

আমার কথা হলো, যদি জীবনী শক্তি থাকে, যে সুবিধা আমি পেয়েছি, বাংলাদেশের প্রত্যেকটা নাগরিক যেন পায়, তার জন্যে আমি কাজ করতে চাই। সেটাই আমি জনগণকে অবহিত করতে চাই। অকারণে ৫০ হাজার টাকার ইনজেকশন নেয়ার কোনো মানেই হবে না। রেমডেসিভির গ্রহণ করা বোকামি কাজ করা হবে। এটার কোনো লাভ নাই। যত দ্রুত টেস্ট করা যাবে, আলাদা থাকা যাবে এবং খুব অল্প দামের ওষুধটা খেতে হবে। তাহলেই কোনো ভাবনা নাই।

আপনি দিনে গরম পানি কতবার খেয়েছেন?

আমি সারাদিনই খেয়েছি। আধা ঘণ্টা, এক ঘণ্টা পরে পরেই গরম পানি খেয়েছি। কখনও কখনও মধু খেয়েছি। মধু খেলে গলার খসখসটা কমিয়ে দেয়। আরও একটা জিনিস রিকমেন্ট (সুপারিশ) করি- ভিটামিন সি উইথ ডি। এটা গণস্বাস্থ্যে আছে। ওটার বোধহয় দাম ৩ টাকা করে পড়ে। প্রতিদিন ৪টা করে ট্যাবলেট খেলে ওটা মানুষের প্রতিষেধক শক্তি বাড়ায়। তো সবকিছু মিলে ১০০ টাকার বেশি খরচ নাই।

আরেকটা উপদেশ, কথায় কথায় যেন (সিপিটিটি কিংবা এমন একটি টেস্টের কথা বলেন। তবে তা স্পষ্ট বোঝা যায়নি) না করা হয়। আমাকে পাগল করে দিয়েছিল আমার ডাক্তাররা এটি করাবার জন্য। আমি বলছি, কেন করাবা? তুমি আগে এক্স-রে করে দেখ না। আজকে এক্স-রে করেছি। এক্স-রে বলতেছে, উন্নতি হয়েছে। যেখানে ৫ হাজার টাকা খরচ করাইতো, আর আমার ২৫০ টাকার একটা এক্স-রে করেই জানা গেল অবস্থা।