সমকামিতাকে বৈধতা দিলো ভারত

১৫৮ বছরের পুরনো ঔপনিবেশিক আমলের দণ্ডবিধির বিতর্কিত ৩৭৭ ধারা বাতিল ঘোষণা করে ভারতে সমকামিতার অধিকারকে বৈধতা দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।

আজ বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ ঐতিহাসিক এই রায় দিয়েছেন।

রায়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারকের বেঞ্চ বলেছেন, সমকামিতাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বিবেচনা করার ওই আইন এখন অযৌক্তিক। রাষ্ট্রের সব নাগরিককেই সমান অধিকার দিতে হবে।

বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন- বিচারপতি রোহিন্তন নারিমন, এএম খানউইলকার, ডিওয়াই চন্দ্রচুড় ও ইন্দু মালহোত্রা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, ৫৪৭ পৃষ্ঠার এই রায়ে নাগরিকদের গোপনীয়তা, রাষ্ট্রের নজরদারি, গর্ভপাত ও খাদ্যভ্যাসের অধিকার নিয়েও কথা বলেছেন সুপ্রিম কোর্ট।

ঘোষিত রায়ে ভারতের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র বলেছেন, একজন সাধারণ নাগরিকের যে অধিকার রয়েছে সেই একই অধিকার সমকামী সম্প্রদায়েরও রয়েছে। পরস্পরের অধিকারকে সম্মান করুন আর সেটাই সর্বোচ্চ মানবতা। সমকামিতাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা অযৌক্তিক ও অসমর্থনযোগ্য।

প্রধান বিচারপতির রায়কে সমর্থন করেছেন বিচারপতি রোহিন্তন নারিমন, ডিওয়াই চন্দ্রচুড় ও ইন্দু মালগহোত্রা।

২০০৯ সালে দিল্লি হাইকোর্ট ৩৭৭ ধারা থেকে অপরাধ-কে নিমূর্ল করার পক্ষে রায় দেন। কিন্তু ২০১৩ সালে সুরেশকুমার কৌশল বনাম নাজ ফাউন্ডেশনের মামলায় সুপ্রিম কোর্ট এই রায়ে স্থগিতাদেশ দেন। চলতি বছরের মে মাসে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির এলজিবিটি-দের প্রাক্তনীদের অ্যাসোসিয়েশন ৩৭৭ বাতিল করতে মামলা করে। অবশ্য এর আগেই ২৭ এপ্রিল হামসফর ট্রাস্টের অশোক রাও কাভি এবং আরিফ জাফর ৩৭৭ ধারা-র বিরুদ্ধে আদালতে আবেদন করেছিলেন।

গত ১৭ জুলাই শীর্ষ আদালত ৩৭৭ ধারা নিয়ে তার চূড়ান্ত রায়দান স্থগিত রাখে। তখনই জানানো হয়েছিল যে এই নিয়ে ৬ সেপ্টম্বর চূড়ান্ত রায় দেয়া হবে। গত আগস্টে আদালত জানিয়েছিলেন কাউকে যৌন চাহিদার ওপর ভিত্তি করে আলাদা করাটা তার বিরুদ্ধে সম্মানহানি ও বৈষম্য।

এইচএম

© Copyright 2018 - All Rights Reserved - by Jagobangla