‌'নবীন বাংলাদেশের জন্য প্রবীণ বাজেট'

বাজেটে বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা নেই বলে মনে করে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

এ বিষয়ে সংস্থাটির সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সামগ্রিক বিবেচনায় তাদের মনে হয়েছে, নবীন বাংলাদেশের জন্য একটি প্রবীণ বাজেট তৈরি করা হয়েছে।

শুক্রবার রাজধানীর লেকশোর হোটেলে প্রস্তাবিত আগামী অর্থবছরের বাজেট বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি এসময় আরও বলেন, বাজেটে অবাস্তব একটি লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয়। এটা কেন দেয়া হয়, এটা আপনারা জানেন। বাজেটের যে ব্যয়কাঠামো নির্ধারণ করা হয়, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার জন্য আমাদের আয় কাঠামোকে আমাদের সেভাবে বৃদ্ধি করতে হয়। এটা আমাদের রাজস্ব আদায়ের জন্য করতে হয়, বৈদেশিক মুদ্রা সম্পদ ব্যবহার করার ক্ষেত্রেও করা হয়।’

তিনি বলেন, ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগ এখনও স্থবির হয়ে রয়েছে। কর্মসংস্থানে প্রবৃদ্ধির হার এবং গরিবের আয় বৃদ্ধির হার দুর্বল, উৎপাদনশীলতা ও মানবসম্পদের গুণগত মান দুর্বল। এ কারণে বৈষম্য বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সিপিডি বলছে, বাজেটে আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে রাজস্বসহ কিছু ক্ষেত্রে অবাস্তব লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার, যা অর্থবছরের শেষে গিয়ে প্রতিবছরের মতো বাজেট ব্যবস্থাপনায় বড় ঘাটতির তৈরি করবে।

এ ছাড়া ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের করপোরেট করহার আড়াই শতাংশ কমানোর প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে সিপিডি। বাজেট মধ্যবিত্তের ওপর চাপ বাড়াবে বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য চার লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

প্রস্তাবিত বাজেটে মোট রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে তিন লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্রে আয় ধরা হয়েছে দুই লাখ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি টাকা। এ ছাড়া এনবিআরবহির্ভূত সূত্র থেকে কর রাজস্ব ধরা হয়েছে নয় হাজার ৭২৭ কোটি টাকা। করবহির্ভূত খাত থেকে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার ৫৫২ কোটি টাকা।

প্রস্তাবিত বাজেটে অনুন্নয়নসহ অন্যান্য খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে দুই লাখ ৯১ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ধরা হয়েছে এক লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা।

প্রস্তাবিত বাজেটে সার্বিক বাজেট ঘাটতি এক লাখ ২৫ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা দেখানো হয়েছে। এ ঘাটতি অর্থায়নে বৈদেশিক সূত্র থেকে ৫৪ হাজার ৬৭ কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৭১ হাজার ২২৬ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ৪২ হাজার ২৯ কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে ২৯ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা সংস্থানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

বিএইচ

© Copyright 2018 - All Rights Reserved - by Jagobangla