বাস চলাচলের এ কেমন রাস্তা! (ভিডিও)

গাইডেড বাসওয়ে এর সঙ্গে অনেকের পরিচয় না থাকতে পারে। এটি মূলত ব্রিটিশদের উদ্ভাবন। বাস চলাচলের জন্য বিশেষ এক রাস্তা। যেখানে শুধু গাড়ির চাকা চলার উপযোগী। এই রাস্তাকে ‘গাইডেড বাসওয়ে’ বলা হয়। রেললাইনের মতো হলেও বাস্তবে কংক্রিটের পাকা রাস্তা এটি।

একই রাস্তা দিয়ে অনেক ধরনের যান চলাচলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ে। তবে গাইডেড বাসওয়েতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা কম। যেখানে বাসই চলবে- অন্য কোনো যানবাহন নেই। ফলে বাসের গতিও বাড়বে অনেক। জ্যাম ছাড়াই দ্রুত যাত্রী পরিবহন হবে।

তবে সব সময়ে যে লাইনে থাকতে হয়, তা নয়। প্রয়োজনে বাসগুলো তার ‘লাইন’ ছেড়ে সাধারণ গাড়ির পথেও নেমে আসতে পারে।

গাইডেড বাসওয়েতে রাস্তার দুই পাশে দুটি লাইন থাকে। বাসগুলোকে সেই লাইনের ভেতর দিয়ে ছুটতে হয়। কিন্তু এজন্য বাসগুলোতে বিশেষ প্রযুক্তি সংযুক্ত করতে হয়। এ প্রযুক্তি খুব একটা ব্যয়বহুল নয়। কারণ দুটি করে বাড়তি ছোট চাকা লাগালেই কাজ হয়ে যায়।

সাধারণত গাইডেড বাসওয়েগুলো বানানো হয় কার্ব গাইডেন্স পদ্ধতিতে। এতে পথের দুই পাশে নিচু আইল্যান্ডের মতো থাকে। আর বাসগুলোর দুই পাশে দুটি করে ছোট চাকা (কার্ব) থাকে। এই চাকাগুলোর সাহায্যে বাসগুলো গাইডেড বাসওয়ের মধ্যে অনেকটা বন্দি থাকে- বের হতে পারে না।

চাকাগুলো ছোট হওয়ায় সাধারণ রাস্তাতে সেগুলো কোনো সমস্যাও করে না। পরে আরও দুটি পদ্ধতিতে গাইডেড বাসওয়ে বানানো শুরু হয়েছে-অপটিক্যাল গাইডেন্স ও ম্যাগনেটিক গাইডেন্স পদ্ধতিতে। অপটিক্যাল গাইডেন্স পদ্ধতিতে বাসগুলো ক্যামেরার সাহায্যে নির্দিষ্ট পথে চলে। আর ম্যাগনেটিক গাইডেন্স পদ্ধতিতে চলে চুম্বকের সাহায্যে।

ব্রিটিশরা প্রথম এ ধরনের রাস্তা বানায় বার্মিংহামে-ট্র্যাকলাইন ৬৫। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গাইডেড বাসওয়েটিও ইংল্যান্ডের। ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পথটির অবস্থান ক্যামব্রিজশায়ারে। ইংল্যান্ডের বাইরে কার্ব গাইডেড বাসওয়ে আছে জাপানের নগুয়া, অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড আর জার্মানির এসেন শহরে।

গাইডেড বাসওয়ের আরেকটি বড় সুবিধা হলো, এর পরিবেশগত প্রভাব কম। যেমন চওড়া রাস্তা পাকা করতে হয় না এতে। শুধু দুটি চাকার জায়গা পাকা করলেই চলে।

বিএইচ

© Copyright 2018 - All Rights Reserved - by Jagobangla